সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভূমিকম্পসংক্রান্ত গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।

Nov 25, 2025 - 01:26
 0  2
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভূমিকম্পসংক্রান্ত গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভূমিকম্পসংক্রান্ত গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ বক্তব্য দেন তারা।

বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা জানান, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, ১০ দিনের মধ্যে অথবা ১ মাসের মধ্যে বড় ধরনের ভূমিকম্প হবে বলে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে— সেগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অপতথ্য ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান সভায় বলেন, বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে যেসব ভূমিকম্পের উৎস বা ফল্ট লাইন রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য শেকিং লেভেল নির্ণয় করা জরুরি। তার মতে, বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা নয় এবং বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় জনসচেতনতা গড়ে তুলতে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি চার স্তরে— ইনডোর, আউটডোর, ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানে— করণীয় নির্দেশিকা তৈরি করে তা সবার কাছে পৌঁছানোর পরামর্শ দেন। তরুণদের অংশগ্রহণে ন্যাচারাল হ্যাজার্ড প্ল্যান গ্রহণ করলে সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো নিজেদের অধীনস্থ স্থাপনাগুলোর ভূমিকম্প–সহনশীলতা মূল্যায়ন করতে পারে। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ভূমিকম্পবিষয়ক প্রশিক্ষণ চালু করলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং আতঙ্ক কমবে বলেও মত দেন তিনি।

সভায় বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি গ্রহণই দুর্যোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়— ভয় বা গুজব নয়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0